Mar 08, 2019
8620 Views

সাঈদ খানম বাংলাদেশের প্রথম নারী ফটোগ্রাফার। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে আচ্ছাদিত করেছিলেন। তার ফটোগ্রাফ গুলি বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় এবং বহু আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সেমিনারে প্রকাশ করা হয়েছে । তিনি বাংলাদেশ মহিলা সমিতি ও বাংলা একাডেমির জীবদ্দশায় সদস্য। সম্প্রতি একুশে পদক তাঁকে প্রথম পেশাদার মহিলা ফটোগ্রাফার হিসাবে ভূষিত করেছিলেন। তিনি বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সাথে কাজ করেছেন।

২৯ ডিসেম্বর ১৯৩৭ সালে এই সম্মানিত নারী জন্মগ্রহণ করেন পাবনা জেলায়। তিনি তার চার বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিলেন। ফটোগ্রাফিতে তার মনোযোগ খুব অল্প বয়সে শুরু হয়েছিল যখন তার বোন তাকে একটি রোলিইকর্ড ক্যামেরা কিনেছিল। তিনি ফোটোগ্রাফি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না। কিন্তু তিনি বৈদেশিক ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিন থেকে শিখেছিলেন যা তাকে জাইদির স্টুডিও, ঢাকা স্টুডিওর মালিক কর্তৃক দেওয়া হয়েছিল।

সাঈদ খানম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্য ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। সেই সময়ে মহিলাদের একমাত্র পত্রিকা ছিল। তিনি সত্যজিৎ রায়ের (চলচ্চিত্র নির্মাতা) তিন ছবিতে একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি রানী এলিজাবেথ, ইন্দিরা গান্ধী, বুজ অ্যালডিন, মাদার তেরেসা, নিল আর্মস্ট্রং এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মতো চিত্রের প্রতিকৃতিও করেছিলেন। তিনি ১৯৫৬ সালে তার প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী করেন। সেই বছর তার কাজ ঢাকায় এবং পরে জাপান, ফ্রান্স, সুইডেন, পাকিস্তান এবং সাইপ্রাসে প্রদর্শিত হয়েছিল।

সাঈদ খানম ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্য বিভাগের সেমিনারী গ্রন্থাগারে গ্রন্থাগারিক হিসেবে কাজ করেন। যুদ্ধের পরপরই তিনি হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নার্স হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। ১৯৬০ সালে তিনি পাকিস্তান ফটো কনটেস্টে একটি পুরষ্কার পান। ১৯৮৫ সালে তিনি ফটোগ্রাফির জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্যান্য পুরষ্কার পেয়েছিলেন।

সাঈদ খানম একদিকে যেমন ক্যামেরা চাইয়েছেন পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন তাঁর ৮২ বছরে জীবনে।

Author
  • Comments are closed.

[TheChamp-FB-Comments]